হবিগঞ্জে ধর্ষনের মামলা তুলে না নেয়ায় আবার ধর্ষন, হত্যা 



অপহরণের পর ধর্ষনের ঘটনা ঘটায় কিছু নরপশু, তাতে মামলা দেয় ধর্ষিতার বাবা মা। পরে ধর্ষকপক্ষের লোকেরা মামলা তুলে নেয়ার জন্যে চাপ দিলে, মামলা তুলে না নেয়ায় আবারো ধর্ষনের ঘটনা ঘটায় আগের ধর্ষকেরা। এবার খালি ধর্ষন করেই ক্ষান্ত থাকে নি। ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে কিছু কাপুরুষ।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, জেলার নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাধীন ব্রাম্মনডোরা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক সায়েদ আলীর ওই কিশোরী মেয়েকে অপহরনের পর ধর্ষণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে প্রায় দু’মাস আগে পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের আদালতে একটি মামলা হয়। এ মামলায় ব্রাম্মনডোরা ইউপির বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার কমল চান ও তার পুত্র কবীর সহ ৩ জনকে আসামী করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলাটি এফআইআরভূক্ত করে। তারপরপরই বিউটির মেডিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন করে পুলিশ। এদিকে পুলিশী এমন কার্যক্রম সম্পন্নের পর বিউটি চলে যায় তার নানার বাড়ী জেলার লাখাই উপজেলাধীন গনিপুর গ্রামে।


এমতাবস্থায় ওসি আরও জানান, শনিবার ভোরে নানার বাড়ীর লোকজন দেখতে পান বিউটি রুমে নেই। তার কিছু সময়ের মধ্যেই এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাধীন পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওরে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ খবর পুলিশকে তারা অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে এটিই নিখোঁজ বিউটির মৃতদেহ বলে শনাক্ত করেন তারা।

এসময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দেখতে পায়, এই মৃতদেহের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত। পুলিশ ও গ্রামবাসীদের ধারনা, বিউটিকে তুলে নিয়ে আবারও ধর্ষনকালে হয়তো কাউকে সে চিনে ফেলেছে, এজন্য স্বাক্ষী না রাখা নয়তো পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মামলা করার কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে বিউটিকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে ধর্ষক নামের এই নরপশুরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সহ গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিউটির মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে নিয়ে এসেছে পুলিশ। তবে এমন নির্মম হত্যাকান্ডের আগে ও পরবর্তীতে এখন পর্যন্ত সংশ্লিস্ট মামলার কোন আসামী আটক করতে পারেনি পুলিশ।

No comments:

Post a Comment

| Designed by Geek